১৩ জানুয়ারি , ২০২১

আমরা অনেকেই ছোট বয়স থেকে মা বাবা , পরিবারের লোকজন , এমনকি কিছু ডাক্তারের কাছেও শুনে অভ্যস্ত যে , প্রতিদিন আমাদের প্রচুর প্রচুর জল পান করা উচিত , যত জল পান করবে তত স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। কিন্তু বলব, এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা , এবং অতিরিক্ত জল পান করা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর , অনেকেই এটা শুনে আমাকে পাগল ভাবতে পারে কিন্তু আমি শতভাগ নিশ্চিত সব বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারেরা আমার সাথে সহমত হবে।

আমাদের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ জল দ্বারা গঠিত। জল আমাদের ঠিক কী কী কাজে লাগে এখানে আর উল্লেখ করলাম না, ইন্টারনেট পাড়ায় প্রচুর এমন ওয়েবসাইট , ব্লগ বা নিউজ পোর্টাল আছে যেখান থেকে তুমি এগুলি জানতে পারো। আজ আমরা এখানে শরীরে জলের উপকারিতা নিয়ে নয় , জলের “অপকারিতা” নিয়ে আলোচনা করব , এমনকি শুনলে অবাক হবে জলপান মৃত্যুর কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।

ওকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ড. তামারা হিউ-বাটলারের মতে, আমাদের শরীরের জলের ঘাটতি জানান দেওয়ার একটি নিজস্ব প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হল তৃষ্ণা বা জল পিপাসা। যখনই আমাদের শরীরে জলের পরিমাণ নির্দিষ্ট পরিমাণ কমে যায় তখনই আমাদের তৃষ্ণা লাগে। এবং শুধু তখনই জল পান করলেই আমরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারব। [১]

এছাড়া , আমার মূত্রের বর্ণের সাহায্যেও আন্দাজ করতে পারি যে আমাদের দৈনিক জল পানের পরিমাণ ঠিক আছে কি না -

তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে , আমরা যে মাঝে মাঝে বিভিন্ন মিডিয়ায় যে বিজ্ঞাপন দেখি যে , বেশি জল পান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো! ওগুলি কি তাহলে ভুল?

একদম ভুল , ওগুলো শুধু কোম্পানিগুলির ব্যবসায়িক চালাকি ছাড়া আর কিছুই না। তবে আমাদেরও ভুল -  ওগুলা বিজ্ঞাপন, সেগুলিকে বিজ্ঞান ভেবে বসা উচিত নয়!

তবে আমাদের মনে রাখা উচিত যে , আমাদের সারাদিন কত পরিমাণ জল পান করা উচিত তার বেশিটাই নির্ভর করে আমার দৈনিক জীবনযাত্রার ও পরিবেশের উপর যেমন গরম পরিবেশে বাস করলে তুলনামূলক বেশি জলের প্রয়োজন আবার । তবে মার্কিন ইন্সটিটিউট অফ মেডিসিনের মতে , একজন সাধারণ পুরুষের দৈনিক ১৩ কাপ বা প্রায় ৩ লিটার এবং একজন সাধারণ মহিলার দৈনিক ৯ কাপ বা ২ লিটারের একটু বেশি তরল পান করলেই যথেষ্ট। [২]

অতিরিক্ত জলপান, আমাদের জন্য বিপজ্জনক, এর ফলে বিভিন স্থায়ী অস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে যেমন - মাথাব্যাথা, বমি ইত্যাদি। এছাড়া আরও বিপজ্জনক লক্ষন দেখা যেতে পারে , যেমন মাথা ঘোরানো, উচ্চ রক্তচাপ , দৃষ্টিভ্রম, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। অতিরিক্ত জল আবার মস্তিষ্কে অত্যাধিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে যার ফলে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা একেবারে শেষ পর্যায়ে কোমা বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

শেষ কথা বলব , কেও কিছু বললেই চট করে বিশ্বাস করো না। নিজে যাচাই করবে, তারপর বিশ্বাস করবে নাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

জলই হল জীবন/ আবার অতিজল বিপদ!

~ পলাশ বাউরি