দাবি

আমরা কদিন আগে খবরের পাতায় দেখেছি, সোফিয়া নামক এক রোবট সৌদি আরবের নাগরিকত্ব লাভ করে। সাথে সাথে প্রথম অমানব যন্ত্র হিসাবে জাতিপুঞ্জের উন্নয়ন প্রোগ্রামের নতুনত্বে বিজয়ী সম্মাননা পায়। সোফিয়া হল এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাযুক্ত উন্নত মানের রোবট। সে মানুষের মত অনেক কিছুই করতে পারে, যেমন মানুষের মত অঙ্গভঙ্গি করা, মুখের অভিব্যক্তি নকল করা ইত্যাদি। এছাড়া সে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে এবং বিভিন্ন বিষয়ের উপর কথোকপথনও চালিয়ে যেতে পারে।  অর্থাৎ এর থেকে বোঝা যাছে যে , সেদিন দূর নয় যখন সোফিয়ার থেকেও উন্নত রোবট আমাদের মাঝেই থাকবে। তাহলে যদি মানুষের সমগুণ বিশিষ্ট সমকক্ষ মেশিন বা রোবট তৈরি হয় তাহলে কী হবে?

18 January 2021  ·  4 Minutes  ·  722 words

সংরক্ষণ দ্বন্দ্ব!

সত্যি করে বলছি, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে আমার লেখার কোনোদিনই ইচ্ছা ছিল না। কারণ অনেক, তার মধ্যে কয়েকটি অন্যতম হল - বিষয়টি সমাজের একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিয়েই যে সম্প্রদায়ের অন্তর্গত আমি নিজেই আর তাছাড়া এইযুগে নিজেকে একটু রাজনৈতিকভাবে সঠিক রাখাই ভালো; কে বলতে পারে কোথাও থেকে কোনসময় হঠাৎ করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ছুটে আসতে পারে। যাইহোক, অতশত না ভেবে ঠিক করলাম আজ লিখবই এবিষয়য়ে; কারণ আমার মনে হল লেখা দরকার!তবে আমি আগেই বলে রাখতে চাই, আমি এখানে তাদের প্রতিটি যুক্তি খণ্ডন করতে এখানে লিখতে শুরু করিনি। আমি শুধু এখানে শুধু এটা আলোচনা করার জন্য যে তাদের মুল বক্তব্যে কোথায় ত্রুটি রয়েছে এবং সেই ত্রুটিপূর্ণ দর্শনকে বাস্তবজীবনে ফলালে কী কী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ফেসবুকে বা অন্যান্য সামাজিক মাধামে বিভিন্ন মানুষ বিশেষ করে ভারতীয় সংবিধানের অসংরক্ষিত সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদের একঝড় তুলছে - তাদের দাবি জাতি ভিত্তিক সংরক্ষণ বন্ধ করতে হবে অর্থাৎ তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্যে যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে সংবিধান প্রণেতাদের দ্বারা সেটি প্রত্যহার করে, উপার্জন বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে কেও এই উক্ত বাক্যগুলি যদি পড়ে তাহলে অনেকেরই মনে হতে পারে যে , তাদের দাবি ন্যায্য। অনেক গরিব অসংরক্ষিত পরিবার আছে যাদের ঘরে মেধা সম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তারা বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। মনের গভীর থেকে বলছি, তাদের জন্য আমার আজীবন সমবেদনা ছিল, আছে এবং থাকবে; এবং আমিও এও মানছি যে এইসব প্রার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থার প্রয়োজন। কিন্তু , আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এখনি এখনি ভারতের সংবিধান থেকে জাতি ভিত্তিক সংরক্ষণ তুলে দেওয়া যাবে না যতদিন না সমাজের তথাকথিত নিচু জাতির মানুষেরা আর্থ-সামাজিক ভাবে সমাজের উঁচু জাতির সমপর্যায়ে আসছে। তোমরা কল্পনা করতে পারো , আজকে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমাদের খবরে দেখতে হয় - নিচু জাত বলে কল থেকে বা কুয়ো থেকে জল খাওয়ার অধিকার নেই , নিচু জাত বলে মন্দিরে ঢুকতে পারে না, নিচু জাত বলে তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়, নিচু জাত বলে তাদের ন্যায়ের অধিকার নেই, নিচু জাত বলে তাদের ধারে কাছে কেও ঘেঁষে না, নিচু জাত বলে তাদের সমাজে একঘরে করে রাখা হয়…ইত্যাদি ইত্যাদি… আর কত বলব। এইসব ফেসবুকের সমাজ সংস্কারকের কথায় - সংরক্ষিত জাতি মানেই তারা অযোগ্য ও মেধাহীন। তাদের একটা ফেসবুকে পোস্ট দেখেছিলাম যেখানে তারা বলছে - “তুমি জাতি মানো না কিন্তু এদিকে আবার সংরক্ষণ কোটায় চাকরি নাও” আমার শুধু একটাই বক্তব্য আছে - জাতি তারা মানে না তাদের জাতি মানতে বাধ্য করা হয়। তাদের প্রত্যহিক জীবনে বারবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হয় তারা ছোট জাত, তারা ক্ষুদ্র, তারা নিচু জাত। আমি আমার বাস্তবজীবনের দেখা একটা ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করছি - কয়েকবছর আগে আমাদের পাড়াতে এক মহিলা ও তার পরিবার বাস করত। তারা ছিল সমাজের উঁচু জাতের মানুষ । একবার তার শাড়িতে একবার ভুল করে মনে হয় আমার হাত লেগে গেছিল। সেটা ছিল সন্ধ্যার সময়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তিনি স্নান করেছিল সেই ভর সন্ধ্যা বেলাতে। আমার একটা সহজ প্রশ্ন, আমার মনে সেইসময় কিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল?