এক করোনা অভিজ্ঞতা

করোনা নিয়ে আমাদের পরিবারের কদিন বেশ ভালোই অভিজ্ঞতা হল। তবে সেটাকে ভালো অভিজ্ঞতা বলা চলে বলে আমার মনে হয় না।   বেশ কদিন আগে আমার বড় জেঠূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বেশ কিছু শারীরিক অসুবিধার জন্যে তবে তার একটাও করোনার লক্ষণ নয়, সবকটি উপসর্গ আগের থেকেই উপস্থিত ছিল, সেগুলোই একটি প্রকট রূপ ধারণ করেছিল তাই বাধ্য হয়ে কলকাতার এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানে তাঁর করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সারা কলকাতা খুঁজেও একটিও করোনা বেড পাওয়া যায়নি। শেষমেশ তাঁকে দুর্গাপুর সনকা বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে সেখানেও কোনো বেড ফাঁকা ছিল না, কিন্তু আমাদের পরিবারের কিছুটা রাজনৈতিক/অরাজনৈতিক “যোগাযোগ” থাকার ফলে কোনরকমে একটা স্পেশাল বেডের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হই। যাইহোক, জেঠুর অবস্থা আগের থেকেই ভালো ছিল না। তারসাথে আমরা পরিবারের সবাই বেশ তার উপর শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম তাঁর করোনা পজিটিভ হওয়ার কারণে। সেখানে করোনার চিকিৎসা ঠিক কেমন দেওয়া হয়েছিল বা আদৌ কি কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে আমরা বেশ সন্ধিগ্ধ ছিলাম। দুর্ভাগ্যের কথা, ভর্তির পরের দিনই সন্ধ্যায় খবর আসে হাসপাতাল থেকে, জেঠু আর নেই!

17 April 2021  ·  3 Minutes  ·  500 words

জাতীয় সংগীত ও জাতীয় গান

বেশকিছুদিন আগে ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে হতে হঠাৎ চোখে পড়ল আমার প্রাক্তন হাই স্কুলের ফেসবুক পেজটির একটি পোস্ট। পোস্টটি ছিল একটি কবিতা, সেই কবিতাটি লিখেছেন আমাদের বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষিকা। কাব্যিক চুলচেরা বিশ্লেষণ আমি করতে চাই না, তবে সাধারণ মানুষের চোখে বেশ ভালোই লাগবে কবিতাটি। তবে কবিতাটির ষষ্ঠ লাইনেই একটি ত্রুটি চোখে পড়ে আমার - সেখানে বলা হচ্ছে, স্কুলের প্রার্থনাতে নাকি ‘জাতীয় গান’ গাওয়া হয়!  [তবে আমি আগেই বলে রাখতে চাই, ওই শিক্ষিকার ত্রুটি ধরে আমি নিজেকে মহান বা জ্ঞানী প্রতিপন্ন করতে চাই না। আমার উদ্দেশ্য খুব সরল - কাব্যকে ত্রুটিহীন করা। ]

13 February 2021  ·  2 Minutes  ·  336 words

নেতাজির সাথে কয়েকমুহূর্ত

কাল ছিল মহান বিপ্লবী ও দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিন। সেই উপলক্ষে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বেশ জমজমাট অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন অনেক বিশিষ্টজন সাথে ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল। এদিন নেতাজির পত্রাবলি সম্বলিত একটা গ্রন্থও প্রকাশ পেল। সাথে একটি অভিনব প্রোজেক্টর শো এর আয়োজন করা হয় - ভিক্টোরিয়া সাদা দেওয়ালগুলিকে পর্দা বানিয়ে নেতাজির জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয় আলোর খেলার মাধ্যমে।   যদিও সব ঠিক ছিল প্রথমদিকে কিন্তু একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, কিছুক্ষণের জন্য সব মাটি করে দেয়। এটি ছিল একটি সরকারি অনুষ্ঠান এবং এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত অতিথিগন কিন্তু কোনো রাজনীতিক দলের প্রতিনিধি নন । কোনো প্রতিনিধিকেই অপমান করা অর্থাৎ আমাদের নিজেদেরই অসম্মান।

24 January 2021  ·  3 Minutes  ·  615 words

মেছো

১৬ জানুয়ারি , ২০২১ আমরা প্রায় সবাই জানি যে ভারতের (এবং বাংলাদেশের) জাতীয় পশু হল, বাঘের একটি উপপ্রজাতি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বা বাংলার বাঘ। কিন্তু আমাদের বেশিরভাগই জানি না যে , আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেরও একটি রাজ্য পশু আছে - বাঘরোল বা মেছোবাঘ বা মেছোবিড়াল। এই প্রাণীটির অনেক নাম থাকলেও এটি স্থানীয়ভাবে বাঘরোল নামেই অধিক পরিচিত। বাঘরোল অনেকটা বিড়ালের মত দেখতে স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা সাধারণত নদীর ধারে , জলাভূমি বা ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে বসবাস করে। এদের গায়ে চিতা বাঘের মত ছোপ ছোপ দাগ থাকায় অনেকেই এদেরকে চিতাবাঘ ভেবে ভুল করে। এরা সাঁতারে খুব পটু হয় , এদের পছন্দের খাবারও আবার মাছ, তাই এদের নাম মেছোবাঘ বা মেছো বিড়াল।

16 January 2021  ·  3 Minutes  ·  622 words

সংরক্ষণ দ্বন্দ্ব!

সত্যি করে বলছি, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে আমার লেখার কোনোদিনই ইচ্ছা ছিল না। কারণ অনেক, তার মধ্যে কয়েকটি অন্যতম হল - বিষয়টি সমাজের একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিয়েই যে সম্প্রদায়ের অন্তর্গত আমি নিজেই আর তাছাড়া এইযুগে নিজেকে একটু রাজনৈতিকভাবে সঠিক রাখাই ভালো; কে বলতে পারে কোথাও থেকে কোনসময় হঠাৎ করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ছুটে আসতে পারে। যাইহোক, অতশত না ভেবে ঠিক করলাম আজ লিখবই এবিষয়য়ে; কারণ আমার মনে হল লেখা দরকার!তবে আমি আগেই বলে রাখতে চাই, আমি এখানে তাদের প্রতিটি যুক্তি খণ্ডন করতে এখানে লিখতে শুরু করিনি। আমি শুধু এখানে শুধু এটা আলোচনা করার জন্য যে তাদের মুল বক্তব্যে কোথায় ত্রুটি রয়েছে এবং সেই ত্রুটিপূর্ণ দর্শনকে বাস্তবজীবনে ফলালে কী কী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ফেসবুকে বা অন্যান্য সামাজিক মাধামে বিভিন্ন মানুষ বিশেষ করে ভারতীয় সংবিধানের অসংরক্ষিত সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদের একঝড় তুলছে - তাদের দাবি জাতি ভিত্তিক সংরক্ষণ বন্ধ করতে হবে অর্থাৎ তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্যে যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে সংবিধান প্রণেতাদের দ্বারা সেটি প্রত্যহার করে, উপার্জন বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে কেও এই উক্ত বাক্যগুলি যদি পড়ে তাহলে অনেকেরই মনে হতে পারে যে , তাদের দাবি ন্যায্য। অনেক গরিব অসংরক্ষিত পরিবার আছে যাদের ঘরে মেধা সম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তারা বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। মনের গভীর থেকে বলছি, তাদের জন্য আমার আজীবন সমবেদনা ছিল, আছে এবং থাকবে; এবং আমিও এও মানছি যে এইসব প্রার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থার প্রয়োজন। কিন্তু , আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এখনি এখনি ভারতের সংবিধান থেকে জাতি ভিত্তিক সংরক্ষণ তুলে দেওয়া যাবে না যতদিন না সমাজের তথাকথিত নিচু জাতির মানুষেরা আর্থ-সামাজিক ভাবে সমাজের উঁচু জাতির সমপর্যায়ে আসছে। তোমরা কল্পনা করতে পারো , আজকে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমাদের খবরে দেখতে হয় - নিচু জাত বলে কল থেকে বা কুয়ো থেকে জল খাওয়ার অধিকার নেই , নিচু জাত বলে মন্দিরে ঢুকতে পারে না, নিচু জাত বলে তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়, নিচু জাত বলে তাদের ন্যায়ের অধিকার নেই, নিচু জাত বলে তাদের ধারে কাছে কেও ঘেঁষে না, নিচু জাত বলে তাদের সমাজে একঘরে করে রাখা হয়…ইত্যাদি ইত্যাদি… আর কত বলব। এইসব ফেসবুকের সমাজ সংস্কারকের কথায় - সংরক্ষিত জাতি মানেই তারা অযোগ্য ও মেধাহীন। তাদের একটা ফেসবুকে পোস্ট দেখেছিলাম যেখানে তারা বলছে - “তুমি জাতি মানো না কিন্তু এদিকে আবার সংরক্ষণ কোটায় চাকরি নাও” আমার শুধু একটাই বক্তব্য আছে - জাতি তারা মানে না তাদের জাতি মানতে বাধ্য করা হয়। তাদের প্রত্যহিক জীবনে বারবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হয় তারা ছোট জাত, তারা ক্ষুদ্র, তারা নিচু জাত। আমি আমার বাস্তবজীবনের দেখা একটা ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করছি - কয়েকবছর আগে আমাদের পাড়াতে এক মহিলা ও তার পরিবার বাস করত। তারা ছিল সমাজের উঁচু জাতের মানুষ । একবার তার শাড়িতে একবার ভুল করে মনে হয় আমার হাত লেগে গেছিল। সেটা ছিল সন্ধ্যার সময়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তিনি স্নান করেছিল সেই ভর সন্ধ্যা বেলাতে। আমার একটা সহজ প্রশ্ন, আমার মনে সেইসময় কিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল?

22 January 2021  ·  6 Minutes  ·  1232 words