আমি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

ধরো আমার দুই বন্ধু, রাম ও রহিম। রাম বেশ খোলামেলা প্রকৃতির, সবার সঙ্গেই চট করে মিশতে পারে, ওর বন্ধুবান্ধবের সংখ্যাও অনেক; অন্যদিকে রহিম একটু অন্তর্মুখী প্রকৃতির, সবার সাথে চট করে মিশতে পারে না, আমাকে ছাড়া ওর তেমন আর কোনো বন্ধু নেই। রাম থাকে যৌথ পরিবারে, বেশ বড়সড় পরিবার, অনেক সদস্য; অন্যদিকে রহিম থাকে ওর মা ও বাবার সাথে একটা বাড়িতে, বুঝতেই পারছো ওদের বাড়িতে তিনজন মাত্র সদস্য।   কদিন আগে শুনলাম ওদের মধ্যে একজন ডিপ্রেশন (অবসাদ) ও এংজাইটি (উদ্বেগে) ভুগছে!

7 March 2021  ·  4 Minutes  ·  822 words

ধর্ষণ ও আমরা

সেদিন খবরে দেখছিলাম, মহারাষ্ট্রের একজন সরকারি কর্মচারী এক স্কুল পড়ুয়া নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছে। পকসো আইনে সে নিয়ে মামলা চলছে। সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তকে অফার দিচ্ছে, অভিযুক্ত যদি ধর্ষিতা মেয়েটিকে যদি বিয়ে করে তাহলে তার চাকরিও যাবে না এবং শাস্তিও হবে না। নানা কোনো সিনেমার গল্প নয়, একেবারে বাস্তব ঘটনা! বিশ্বাস নাহলে আনন্দবাজারের খবরটি পড়ে নিতে পারেন [খবর]। সত্যি এক উদ্ভট ঘটনা, ধর্ষণ করে বিয়ে করে নিলেই কি সব দোষ মাফ?

4 March 2021  ·  2 Minutes  ·  335 words

সংরক্ষণ দ্বন্দ্ব!

সত্যি করে বলছি, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে আমার লেখার কোনোদিনই ইচ্ছা ছিল না। কারণ অনেক, তার মধ্যে কয়েকটি অন্যতম হল - বিষয়টি সমাজের একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিয়েই যে সম্প্রদায়ের অন্তর্গত আমি নিজেই আর তাছাড়া এইযুগে নিজেকে একটু রাজনৈতিকভাবে সঠিক রাখাই ভালো; কে বলতে পারে কোথাও থেকে কোনসময় হঠাৎ করে ব্যক্তিগত আক্রমণ ছুটে আসতে পারে। যাইহোক, অতশত না ভেবে ঠিক করলাম আজ লিখবই এবিষয়য়ে; কারণ আমার মনে হল লেখা দরকার!তবে আমি আগেই বলে রাখতে চাই, আমি এখানে তাদের প্রতিটি যুক্তি খণ্ডন করতে এখানে লিখতে শুরু করিনি। আমি শুধু এখানে শুধু এটা আলোচনা করার জন্য যে তাদের মুল বক্তব্যে কোথায় ত্রুটি রয়েছে এবং সেই ত্রুটিপূর্ণ দর্শনকে বাস্তবজীবনে ফলালে কী কী বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ফেসবুকে বা অন্যান্য সামাজিক মাধামে বিভিন্ন মানুষ বিশেষ করে ভারতীয় সংবিধানের অসংরক্ষিত সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদের একঝড় তুলছে - তাদের দাবি জাতি ভিত্তিক সংরক্ষণ বন্ধ করতে হবে অর্থাৎ তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্যে যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে সংবিধান প্রণেতাদের দ্বারা সেটি প্রত্যহার করে, উপার্জন বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে কেও এই উক্ত বাক্যগুলি যদি পড়ে তাহলে অনেকেরই মনে হতে পারে যে , তাদের দাবি ন্যায্য। অনেক গরিব অসংরক্ষিত পরিবার আছে যাদের ঘরে মেধা সম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তারা বিশেষ কিছু সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। মনের গভীর থেকে বলছি, তাদের জন্য আমার আজীবন সমবেদনা ছিল, আছে এবং থাকবে; এবং আমিও এও মানছি যে এইসব প্রার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু ব্যবস্থার প্রয়োজন। কিন্তু , আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এখনি এখনি ভারতের সংবিধান থেকে জাতি ভিত্তিক সংরক্ষণ তুলে দেওয়া যাবে না যতদিন না সমাজের তথাকথিত নিচু জাতির মানুষেরা আর্থ-সামাজিক ভাবে সমাজের উঁচু জাতির সমপর্যায়ে আসছে। তোমরা কল্পনা করতে পারো , আজকে একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও আমাদের খবরে দেখতে হয় - নিচু জাত বলে কল থেকে বা কুয়ো থেকে জল খাওয়ার অধিকার নেই , নিচু জাত বলে মন্দিরে ঢুকতে পারে না, নিচু জাত বলে তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়, নিচু জাত বলে তাদের ন্যায়ের অধিকার নেই, নিচু জাত বলে তাদের ধারে কাছে কেও ঘেঁষে না, নিচু জাত বলে তাদের সমাজে একঘরে করে রাখা হয়…ইত্যাদি ইত্যাদি… আর কত বলব। এইসব ফেসবুকের সমাজ সংস্কারকের কথায় - সংরক্ষিত জাতি মানেই তারা অযোগ্য ও মেধাহীন। তাদের একটা ফেসবুকে পোস্ট দেখেছিলাম যেখানে তারা বলছে - “তুমি জাতি মানো না কিন্তু এদিকে আবার সংরক্ষণ কোটায় চাকরি নাও” আমার শুধু একটাই বক্তব্য আছে - জাতি তারা মানে না তাদের জাতি মানতে বাধ্য করা হয়। তাদের প্রত্যহিক জীবনে বারবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে মনে করিয়ে দেওয়া হয় তারা ছোট জাত, তারা ক্ষুদ্র, তারা নিচু জাত। আমি আমার বাস্তবজীবনের দেখা একটা ঘটনার কথা এখানে উল্লেখ করছি - কয়েকবছর আগে আমাদের পাড়াতে এক মহিলা ও তার পরিবার বাস করত। তারা ছিল সমাজের উঁচু জাতের মানুষ । একবার তার শাড়িতে একবার ভুল করে মনে হয় আমার হাত লেগে গেছিল। সেটা ছিল সন্ধ্যার সময়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তিনি স্নান করেছিল সেই ভর সন্ধ্যা বেলাতে। আমার একটা সহজ প্রশ্ন, আমার মনে সেইসময় কিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল?

22 January 2021  ·  6 Minutes  ·  1232 words

সমাজ ও দ্বৈততা ত্রুটি

বর্তমানের আধুনিক মানুষের জন্ম প্রায় ৩ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকা থেকে। মানুষের জন্মকাল থেকেই বিভিন্ন সংগ্রাম , পরিবর্তন ও বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ আজকের এই “আধুনিক” মানুষের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এই লম্বা সফরে আমাদের মানব সমাজে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ গঠেছে। তবে মানব সমাজের সূচনা কাল থেকেই মানুষের মনের গভীরে কিছু ত্রুটিও মিশে রয়ে গেছে - তেমনি একটি ত্রুটি হল দ্বৈততা (Duality) ত্রুটি।  ** ** দ্বৈততা বা Duality জিনিসটা কী? দ্বৈততার উল্লেখ গণিত, সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞানে অনেকক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের এখানে আলোচনার বিষয় হল মানুষের মনের অন্তরে থাকা দ্বৈততার। মানুষের মনের দ্বৈততা কিন্তু কিছুটা অদ্ভুত রকমের, আমাদের চিন্তাভাবনা দ্বৈততা দ্বারা আক্রান্ত , ফলে আমরা কাছে সমস্ত বস্তু, শক্তি ও পদার্থকে একটি জোড়ের সমষ্টি বলে মনে হয় । আমাদের কাছে সমস্ত কিছুই একটি মুদ্রা আর তার আছে মাত্র দুটি পিঠ। যেমন, তাপমাত্রাকে আমরা শুধু দেখি ঠাণ্ডা বা গরম হিসাবে, কোনো মানুষের বা প্রাণীর চরিত্রকে আমরা দেখি দুভাবে ভালো বা খারাপ, কোনো বস্তুর সৌন্দর্যকে আমরা দেখি সুন্দর বা কুৎসিত হিসাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা যদি একটু জোর দিয়ে ভাবি তাহলে সবকিছুই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা সৃষ্ট। ভালো - খারাপ , ঠাণ্ডা - গরম, আলো-অন্ধকার প্রভৃতি। এখানে প্রতিটি জোড়ার একটি উপাদান ওপর উপাদানের বিপরতি মাত্র। যেমন, ভালো-খারাপ জোড়ের একটি উপদান “ভালো” হল আসলে খারাপের অনুপস্থিতি এবং “খারাপ” হল ভালোর অনুপস্থিতি; ঠাণ্ডা-গরম জোড়ের ঠাণ্ডা হল গরমের অনুপস্থিতি আবার গরম হল ঠাণ্ডার অনুপস্থিতি; আলো-অন্ধকার জোড়ের আলো হল অন্ধকারের অনুপস্থিতি আবার অন্ধকার হল আলোর অনুপস্থিতি।

9 February 2021  ·  4 Minutes  ·  825 words

সমাজ ও পরিবার

কয়েকজন মানুষ নিয়ে একটি পরিবার; কয়েকটি পরিবার নিয়ে একটি সমাজ। যদিও পরিবারহীন সমাজও বর্তমান থাকতে পারে কিন্তু বেশিরভাগ তথাকথিত সমাজগুলি পরিবার নিয়েই গঠিত হয়। বর্তমান পরিবারব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে নতুন সমাজ সংস্থায়, তার আভাস আমরা পেতে শুরু করেছি এই শতাব্দী শুরুর বেশ আগে থেকেই। আজ আমরা এখানে এই বিষয় নিয়েই আলোচনা করবো, কিভাবে পরিবারব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার ফলে সমাজ ও মানবজীবনে তার কিরূপ প্রভাব পড়ছে।  এই একবিংশ শতাব্দী শুরুর আগে থেকেই আমরা দেখছি, বৃহৎ পরিবারগুলি ভেঙ্গে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু-পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে। তার ফলে অনেক বিরূপ পড়েছে সমাজে; যেমন - বাসস্থানের চাহিদা বৃদ্ধি, বাজারে জিনিসপত্রের অধিক চাহিদা বৃদ্ধি, শিশুদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপ্তি কম হওয়া, একাকীত্ব ও অবসাদে আক্রান্তে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।

18 February 2021  ·  5 Minutes  ·  880 words